Home / আন্তর্জাতিক / ১৬ বছরের তরুণীকে বিয়ে করল ৭ পুরুষ!

১৬ বছরের তরুণীকে বিয়ে করল ৭ পুরুষ!

নারীদের প্রতি ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের মনোভাব কারোর অজানা নয়। একদিকে চূড়ান্ত রক্ষণশীল মনোভাব নিয়ে নারীদের স্বাধীনতা হরণ, অন্যদিকে যৌনদাসী হিসেবে নারীদের একেবারে পণ্যের স্তরে নামিয়ে এনে সব ক্ষেত্রেই অতি উগ্রতার পরিচয় দিয়েছে আইসিস জঙ্গিরা।

বিষয়টি আসলেই ঠিক কেমন তা জানার চেষ্টা করেছিলেন সাংবাদিক সুলোমে অ্যান্ডারসন। তিনি ইরাক ও সিরিয়ার আইসিস অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে ঘুরে যে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তা শিউরে ওঠার মতো।
আইসিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কুর্দিস্তান রিজিওনাল গভর্নমেন্টের (কেআরজি) বাহিনী পেশমার্গের হাতে সম্প্রতি ধরা পড়ে এক আইএস নেতা। সে নাকি আইসিসের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করত। সুলোমে প্রথমে সেই জঙ্গি নেতার সাক্ষাৎকার নেন। তার সঙ্গে কথা বলে সুলোমে জানতে চেয়েছিলেন নারীদের প্রতি তার মনোভাব। জানতে চেয়েছিলেন, কী চোখে সে দেখে নিজের স্ত্রীকে।

জবাবে সেই আইএস নেতা বলেন, ‘আমার বউ আপাদমস্তক ঢেকে রাখে পোশাকে। আমাকে ছাড়া একা একা কোথাও তার যাওয়া একেবারে নিষেধ। এ জন্য তার খারাপ লাগার কোনো কারণ নেই। কারণ কে না জানে, মেয়েদের জন্মই হয় বিয়ে করা এবং বাচ্চার জন্ম দেওয়ার জন্য।’

পেশমার্গের হাতে যখন সে ধরা পড়ে, তখন ইরাকের হাওয়াইজা শহরে রয়ে গিয়েছিল তার স্ত্রী। তারপর কী পরিণতি হয়েছে তার স্ত্রীর, জানতে চান সুলোমে। নির্বিকার মুখে সেই জঙ্গি জানায়, ‘কে জানে, হয়তো শরিয়ত আইনে অন্য কোনো পুরুষ বিয়ে করেছে তাকে। আসলে যখন জিহাদ চলে তখন তো মেয়েরা জীবনযাপন করে না, শুধুমাত্র টিকে থাকে।’

কুর্দিশ ইরাকের দুহোক শহরে বসবাসরত এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন সুলোমে। ফারিদা নামের সেই নারী বলেন, ‘আমার বোনের বয়স মাত্র ১৬ বছর। কিন্তু এর মধ্যেই জঙ্গিরা জোর করে ৭ পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে ওর। এক এক স্বামী এক এক রাতে ধর্ষণ করে ওকে। আমি নিজেও পাঁচ পুরুষের সঙ্গে সহবাস করতে বাধ্য হয়েছি।
এখানে বিষয়টা এ রকম, এক পুরুষ ইচ্ছেমতো একটি মেয়েকে বিয়ে করে ও ভোগ করে। তারপর কোনোদিন তার কোনো এক বন্ধু হয়তো বাড়িতে এসে পছন্দ করে ফেলল মেয়েটিকে। তখন মেয়েটি এবার হাতবদল হয়ে চলে গেল সেই বন্ধুর বিছানায়।’

কী ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে ইরাক ও সিরিয়ার আইএস অধ্যুষিত এলাকায় তা বোঝাতে গিয়ে ফারিদা বলেন, ‘আমি নিজের চোখে দেখেছি, এক পুরুষ পরপর চার নারীকে ধর্ষণ করল। দেখেছি, স্তন্যপানরত শিশুকে মায়ের বুক থেকে কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে জঙ্গীরা।’

আর এসব কিছুই হচ্ছে ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে। সুলোমে সেই নির্মম সত্যটি তুলে ধরেছেন নিজের লেখায়। একটি ইংরেজি ওয়েব মিডিয়ায় সেই লেখা প্রকাশিত হলে গোটা বিশ্ব শিউরে উঠেছে সেই সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। এই যথেচ্ছাচার অবিলম্বে বন্ধ হোক, এটাই এখন প্রার্থনা সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের।

About Abul Fazal Azad

Check Also

640

‘যুদ্ধ শুরু হলে চীনের সেনারা ৪৮ ঘণ্টায় দিল্লি পৌঁছাবে’

দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে চীনের সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান ৪৮ ঘণ্টায় ও প্যারাট্র–পার সৈন্যরা ১০ …

639

অমতে বিয়ে, রিসেপশনের নামে মেয়েকে ডেকে পুড়িয়ে মারল মা

পারিবারিক সম্মানরক্ষার দায়ে মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল মা৷ পরিবারের অমতে এক ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *