Home / বাংলাদেশ / এক ব্যাংকের কার্ড বানিয়ে আরেক ব্যাংকে চুরি

এক ব্যাংকের কার্ড বানিয়ে আরেক ব্যাংকে চুরি

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এবি ব্যাংকের শাখায় ব্র্যাক ব্যাংকের ভিজিটর কার্ড গলায় দিয়ে চুরি করতে এসে ধরা পড়েছে এক যুবক। আজ সোমবার বিকেলে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢুকে তাঁর দুটি মুঠোফোন চুরি করে পালানোর সময় ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরীদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন সেই যুবক।

এরপর বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তাঁকে ব্যাংকের সামনে বেঁধে রাখা হয়।

আটক ওই যুবকের নাম মো. কালু মিয়া বিপ্লব (২৭)। গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল কলোনিতে। তিনি ঢাকায় তেজগাঁওয়ের বস্তিতে বসবাস করেন। এর আগেও তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নানা কৌশলে বেশ কিছু চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।

যেভাবে প্রকাশ হলো চুরির ঘটনা
আজ দুপুরে কালু ব্র্যাক ব্যাংকের একটি ভিজিটর কার্ড গলায় দিয়ে কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে অবস্থিত এবি ব্যাংকের শাখায় প্রবেশ করেন দুপুর ১টার দিকে। এরপর তিনি উদ্দেশ্যহীনভাবে ব্যাংকের ভেতর ঘুরাফেরা করতে থাকেন। দুপুরে খাবারের সময় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ সোহাগ নামাজ পড়ার জন্য তাঁর রুম থেকে বের হয়ে যান। ঠিক সেই সময় কালু সুযোগ বুঝে ব্যবস্থাপকের কক্ষে ঢুকে তাঁর ব্যবহার করা দুটি মোবাইল ফোনসেট চুরি করে একটি খামের নিচে লুকিয়ে রাখেন। এরপর খাম নিয়ে বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের সন্দেহ হলে তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তখন তিনি ভয় পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থাপকের কক্ষে গিয়ে মুঠোফোন রেখে আসতে যান। সে সময় তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটক করার পর কালু মিয়ার কাছে মোবাইল ও একটি ম্যানিব্যাগ পাওয়া যায়। ম্যানিব্যাগের ভেতর আকিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একটি ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়। তখন আকিবুলকে ফোন করে ঘটনা জানান ব্যবস্থাপক এবং তাঁকে ব্যাংকে আসার অনুরোধ করেন।

এই বিষয়ে আকিবুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে জানান, তিনি পেশায় একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট। গত ৯ ডিসেম্বর গুলশানের ল্যাব এইড থেকে তাঁর দুটি মোবাইল এবং ক্রেডিট কার্ডসহ ম্যানিবাগ চুরি হয়ে যায়। এরপর তিনি ১০ ডিসেম্বর এই বিষয়ে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু ৯ ডিসেম্বর তার চুরি যাওয়া ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ২৩ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে গুলশান-১ নম্বর এলাকার একটি শপিং মল থেকে একটি মোবাইল ফোন কেনা হয়। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই দোকানে গিয়ে সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে চোরকে শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু আজ এবি ব্যাংকের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে আমার ক্রেডিট কার্ডসহ চোরকে কারওয়ান বাজারে আটক করা হয়েছে।’

এই বিষয়ে করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন এনটিভি অনলাইনকে জানান, আজকে সেই চোর কাওয়ান বাজারে ধরা পড়েছে এমন কোনো খবর তাঁর জানা নেই। তবে গত ১০ ডিসেম্বর চুরির ঘটনায় করা একটি জিডির বিষয়ে তিনি তদন্ত করছেন। চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের আইএমই নম্বর ট্রাক করে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আর এই বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি

About Abul Fazal Azad

Check Also

358

উত্তরায় ভয়ংকর কিশোর বখাটেরা

রাজধানীর উত্তরায় উঠতি কিশোর-তরুণরা মিলে গড়ে তুলেছে ভয়ংকর বখাটে দল। এলাকায় মোটরসাইকেল প্রতিযোগিতা, গান-বাজনা, খেলার …

352

ঢাকার ভয়ঙ্কর ফাঁদগুলো জেনে নিন

কর্মসংস্থানের সন্ধানে ঢাকায় আসছে মানুষ। তাই দিন যত যাচ্ছে মানুষের সংখ্যাও তেমন বাড়ছে। আর এসব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *