Home / বাংলাদেশ / ২০ বছরেও পদ্মায় এত পানি দেখেননি এলাকাবাসী!

২০ বছরেও পদ্মায় এত পানি দেখেননি এলাকাবাসী!

ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি চুক্তির ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ১৯৯৬ সালের এই দিনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেব গৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নিজ দেশের পক্ষে ৩০ বছর মেয়াদি এই পানি চুক্তিতে সই করেন।

শুরু থেকেই বণ্টন হওয়া পানির হিস্যা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত বলে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে কমে যায় পদ্মা নদীর পানি। শুকিয়ে যেত আশপাশের অঞ্চল, ফলে সেচ সমস্যার কারণে ফসলের চাষ-সংক্রান্ত বিষয়ের সূচিও পাল্টে যাচ্ছিল।

তবে এ বছর সবকিছুর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। এবার শুষ্ক মৌসুমেও পদ্মা নদী পানিতে টইটম্বুর। ১৯৯৬ সালের পর এই দৃশ্য প্রথম দেখছেন স্থানীয়রা। গত দুই দশকে এ এলাকায় এত পানি আসতে দেখেননি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বছরের প্রথম মাসের প্রথম সাইকেলে (১-১০ জানুয়ারি) গড়ে প্রতিদিন ৬৭ হাজার ৬৫০ কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। গতকাল শনিবার সেই পানির প্রবাহ ছিল ৭৫ হাজার কিউসেক।

পানি না পাওয়ার কারণে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচপাম্প বন্ধ হয়ে যায়। পদ্মার পশ্চিমপাড় ভেড়ামারাসহ আশপাশের এলাকার আবহাওয়া ও পরিবেশ আস্তে আস্তে পাল্টে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতীয় যৌথ পানি বিশেষজ্ঞ দল ভারতের ফারাক্কা ও বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গঙ্গার পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে থাকে এবং সে অনুযায়ী পানি বণ্টন হয়ে থাকে।

এবারের প্রথম সাইকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতীয় জল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পানি কমিশনের উপপরিচালক কৃষ্ণা রাও এবং সহকারী পরিচালক ডি বেনুগোপাল। আর বাংলাদেশে পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম জহুরুল হক।

বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে ফারাক্কা পয়েন্টের প্রবাহ পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে হাইড্রোলজি বিভাগ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা নদী বেষ্টিত পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, নওঁগা ও মেহেরপুর জেলার অন্তত দুই কোটি মানুষ ফারাক্কার বাঁধের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্বল্পতার কারণে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প, পানাসি প্রকল্প, বরেন্দ্র প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের হাজার হাজার একর জমিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পাম্প ব্যবহার করে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে ১২টি পিলারই শুকনো চরে দণ্ডায়মান থাকত। যে তিনটি পিলার পানিতে থাকত, তার আশপাশে মানুষ চাষাবাদ করত। নদী থেকে মাছও বিলীন হয়ে গিয়েছিল।

তবে এবারের দৃশ্য সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এবারে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে ১১টিরই পানির মধ্যে দণ্ডায়মান, যা গত ২০ বছরে কখনো চোখে পড়েনি।

গত ১২ বছর ধরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের বাদাম বিক্রি করেন আবু সাইদ। এনটিভি অনলাইনকে তিনি জানান, এত দিন ডিসেম্বর থেকে নদীর পানি শুকিয়ে যেতে শুরু করত। ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ নদীতে পানিই থাকত না। এবারের মতো এত পানি তিনি তাঁর জীবনে দেখেননি বলেও জানালেন।

ভেড়ামারা পাউবোর গ্রেড রিডার আবদুল হামিদ স্কেল দিয়ে পানি পরিমাপ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ২০ বছর ধরে তিনি পানি মাপছেন। এবারে অন্যবারের চেয়ে পানি বেশি আছে।

তবে কী কারণে এবার পানির প্রবাহ বেড়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানেন না পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম জহুরুল হক। তবে ভারতের উজানে এবার শুষ্ক মৌসুমে অনেক বৃষ্টি হয়েছে, যে কারণে ওই দেশ পানি ব্যবহার করেও শেষ করতে পারছে না বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা। সে কারণে পানির প্রবাহ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

অবশ্য যে কারণেই পানির প্রবাহ বাড়ুক না কেন, এর ফলে এবারে এ অঞ্চলের কৃষকরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।

About Abul Fazal Azad

Check Also

215

নতুন জীবন নিয়ে যা বললেন ইমরান

গতকালই (৩১ ডিসেম্বর) বিয়ে করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। পাত্রী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল …

213

‘এমপির শাস্তি চাইছি, মৃত্যু চাই নাই’

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহতের ঘটনায় ব্যথিত হয়েছে শিশু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *